ছবি: সংগৃহিত

বিগত ৭ই অক্টোবর ২০২০খ্রি. তারিখে বান্দরবানের ম্রো জনগোষ্ঠী কর্তৃক চিম্বুক পাহাড়ে তাদের শত বছরের আবাসভূমিতে সিকদার গ্রুপ (আর এন্ড আর হোল্ডিংস্)ও অন্য কর্পোরেট সংস্থা মিলে যে পাচঁ তারকা হোটেলসহ বিলাসবহুল পর্যটন কমপ্লেক্সে নির্মাণ শুরু করছে, তা বন্ধ করে তাদের আবাসভূমিতে স্ব স্ব জীবন ব্যবস্থা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকারের সুরক্ষা দাবি জানিয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানের সংবাদ আমাদের নজরে এসেছে।

ম্রোদের আবাসভূমিতে এক্সিম ব্যাংকের এমডি হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক আসামীদের মালিকানাধীন সিকদার গ্রুপসহ আরো অন্য কর্পোরেট সংস্থা মিলে পাচঁ তারকা হোটেল, হোটেলের চারপাশে এক একটা পাহাড়ে এক একটি করে মোট ১২ টি বিলাসবহুল ভিলা, এক ভিলা থেকে অন্য ভিলায়, এবং এক পাহাড় থেকে অন্য পাহড়ে যাওয়ার জন্য ক্যাবল কার, পাকা সড়ক, ক্যাবল রাইড, জলকেলির জন্য সুইমিং পুল ইত্যাদি নির্মাণ করার উদ্দেশ্যে বান্দরবান-চিম্বুক-থানচি সড়কের কাপ্রু পাড়া থেকে নাইতং পাহাড় হয়ে জীবন নগর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার ব্যাপী ম্রো আবাসভূমির প্রায় ৮০০ একরের বেশি জায়গা অবৈধভাবে দখল করেছে এবং সেখানে ম্রোদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে এ এলাকার বিভিন্ন স্থানে দখল চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড ও খুঁটি স্থাপিত হয়েছে, যার আওতায় পাড়াবাসীদের শত শত বছরের সংরক্ষিত পাড়াবন, শ্মশানভূমি, জুম চাষের জমি, বনজ –ফলজ বাগান সবকিছু অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। উচ্ছেদের মুখে পড়েছে কাপ্রু পাড়া, ডলা পাড়া, এরাপাড়া, মার্কিন পাড়া, লংবাইতং পাড়া, মেনসিং পাড়া, রিয়ামানাইপাড়া ও মেনরিং পাড়া। এর আগে সুয়ালকে ফায়ারিং রেঞ্জের জন্য অধিগ্রহণকৃত ১১,০০০ একর ছাড়াও নীলগিরি পর্যটন ও জেলা প্রশাসনের পর্যটন কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন জায়গাগুলোও ছিল ম্রোদের আবাসভূমির অংশ।

এ ভাবে ম্রোদের আবাস্থল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে এসেছে।শুধু তাই নয়, ম্রোদের এ আবাসভূমিতে বিলাসবহুল হোটেলসহ পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মিত হলে ম্রোদের চিরকালের অভ্যস্ত পরিবেশের আমূল পরিবর্তন হয়ে তাদেরকে এক অচেনা জগতের মুখোমুখি দাঁড় করাবে যে জগৎ তাদের স্বতন্ত্র ঐতিহ্যমনন্ডিত জীবিকা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও স্বকীয়তাকে ক্রমান্বয়ে ধ্বংস করে দেবে। পাহাড় কেটে বিলাসবহুল হোটেলসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও শত শত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বাসস্থান নিমার্ণ এবং পাহাড়ের জলধারা বা ঝরনায় বাঁধ নির্মিত হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এখন প্রশ্ন হলো, কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক মুনাফার স্বার্থে কি একটা জনগোষ্ঠীকে তাদের আবাসভূমি ও তাদের জীবিকার উৎস থেকে উৎখাত করা নৈতিক ও আইনগত দিক থেকে সমর্থনযোগ্য?পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি সিকদার গ্রুপ ও তার সহযোগী করপোরেট সংস্থার এ জাতীয় বেআইনি কার্যক্রমকে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন বিবেচনায় তীব্র নিন্দার পাশাপাশি সদাশয় সরকারের কাছে এ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করে দিয়ে ম্রো জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের সংকট মোচনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহবান জানাচ্ছে।

গৌতম দেওয়ান,সভাপতি,পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here